নতুন গাড়িতে প্রযুক্তি যোগ হয়েই চলেছে, কিন্তু চালকেরা একসময় নির্ভর করতেন এমন কিছু সহজ সুবিধা হারিয়ে যাচ্ছে।
আধুনিক যানবাহন ইলেকট্রনিক ব্যবস্থায় ঠাসা, তবু গাড়ি নির্মাতারা ধীরে ধীরে কিছু সহজ ও ব্যবহারিক সুবিধা থেকে সরে আসছেন। একসময় যেসব সুবিধা মানক হিসেবে ধরা হতো, সেগুলো এখন পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। Auto30-এর বিশেষজ্ঞরা এমন পাঁচটি সুবিধা চিহ্নিত করেছেন, যেগুলোর অভাব আধুনিক চালকেরা অনুভব করতে পারেন।
এর একটি হলো প্রচলিত ইঞ্জিন অয়েল ডিপস্টিক। Audi, Porsche, BMW ও Cadillac-এর কিছু নতুন মডেলে এটি আর নেই, ফলে চালকদের গাড়ির ইলেকট্রনিক মেনুর মাধ্যমে তেলের মাত্রা পরীক্ষা করতে হয়। ডিপস্টিক দিয়ে গাড়ির ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই দ্রুত তেলের মাত্রা ও অবস্থা পরীক্ষা করা যেত।
আরেকটি দরকারি সুবিধা হলো খোলা যায় বা নিচে নামানো যায় এমন পেছনের জানালা। বড় জিনিস বহনের প্রয়োজন হলে ক্রসওভার ও এসইউভিতে এটি বিশেষভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। Toyota 4Runner ও Jeep Wrangler-সহ কিছু আধুনিক গাড়িতে এখনো এই নকশা ব্যবহার করা হয়।
চালকেরা ইনস্ট্রুমেন্ট প্যানেলের আলো পুরোপুরি নিভিয়ে দেওয়ার সুবিধার অভাবও অনুভব করতে পারেন। ড্যাশবোর্ডের আলো বন্ধ করতে পারলে রাতে গাড়ি চালানোর সময় প্রতিফলন ও মনোযোগ নষ্ট করে এমন বিষয় কমানো যায়।
অনেক গাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি সুবিধা হলো পূর্ণ আকারের অতিরিক্ত টায়ার। গাড়ি নির্মাতারা ক্রমেই এর বদলে টায়ার মেরামতের কিট বা অস্থায়ী অতিরিক্ত টায়ার দিচ্ছেন।
টায়ারে গুরুতর ক্ষতি হলে, যেমন পাশের দেয়ালে কেটে গেলে, সিল্যান্ট কাজ না-ও করতে পারে। অন্যদিকে অস্থায়ী অতিরিক্ত টায়ার কেবল সীমিত সময়ের জন্য গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি। টায়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে পূর্ণ আকারের অতিরিক্ত টায়ার অনেক বেশি ব্যবহারিক সমাধান হতে পারে।
গাড়িতে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সব সময় চালকদের জন্য আরও ব্যবহারিক সমাধান এনে দেয় না। গাড়ি নির্মাতারা জায়গা, ওজন ও খরচ কমাতে চাওয়ায় কিছু মৌলিক যান্ত্রিক সুবিধা হারিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরাসরি হাতে চালানো নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারিক সুবিধার প্রতি আগ্রহ আবার বাড়ছে, যা নতুন গাড়িতে কিছু পরিচিত সমাধান ফিরিয়ে আনতে পারে।