ইঞ্জিন অয়েল, ইঞ্জিন এয়ার ফিল্টার ও কেবিন এয়ার ফিল্টার নিজে বদলালে টাকা বাঁচতে পারে, তবে ছোট ভুল থেকেও ব্যয়বহুল সমস্যা হতে পারে।
প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ মানেই গ্যারেজে পুরো সপ্তাহান্ত কাটানো নয়। অয়েল ও ফিল্টার বদলানোর কাজ অনেক গাড়ির মালিকই নিজেরা করতে পারেন, যদি তাঁরা সঠিক যন্ত্রাংশ ব্যবহার করেন, গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করেন এবং ছোটখাটো বিষয়গুলিতে নজর দেন।
শুরু করার আগে নতুন অয়েল ফিল্টার, ইঞ্জিন এয়ার ফিল্টার ও কেবিন এয়ার ফিল্টার প্রস্তুত রাখুন। নতুন ইঞ্জিন অয়েল, পুরোনো অয়েল সংগ্রহের পাত্র, সাধারণ হাতের সরঞ্জাম, প্রয়োজনে অয়েল-ফিল্টার রেঞ্চ, উপযুক্ত ক্লিনার এবং টর্ক রেঞ্চও লাগবে।
প্রথমে বনেট খুলে অয়েল ভরার মুখের ঢাকনা সরান। এতে পুরোনো অয়েল বেরোনোর সময় ইঞ্জিনে বাতাস ঢুকতে পারে এবং অয়েল আরও সহজে বেরিয়ে আসে।
অয়েল উষ্ণ থাকতেই বের করুন। উষ্ণ অয়েল সহজে প্রবাহিত হয় এবং তাতে ভাসমান দূষিত কণাগুলি ইঞ্জিন থেকে বের করে আনতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর পরপরই ড্রেন প্লাগ খুলবেন না। গরম অয়েলে গুরুতরভাবে পুড়ে যেতে পারেন। গাড়ির নিচে যাওয়ার আগে ইঞ্জিনকে কাজ করার উপযোগী নিরাপদ তাপমাত্রায় ঠান্ডা হওয়ার পর্যাপ্ত সময় দিন।
গাড়িকে নিরাপদভাবে ঠেকনা দিয়ে রাখার পর, ইঞ্জিনের নিচের কভার অয়েল প্যান বা অয়েল ফিল্টারে পৌঁছাতে বাধা দিলে সেটি খুলে ফেলুন।
ড্রেন প্লাগের নিচে অয়েল সংগ্রহের পাত্র রাখুন। উপযুক্ত রেঞ্চ দিয়ে প্লাগটি আলগা করুন, তারপর হাত দিয়ে পুরোপুরি খুলুন। প্লাগ খুলে বেরিয়ে আসামাত্র হাত দ্রুত সরিয়ে নিন, যাতে গায়ে অয়েল না লাগে।
অয়েল পুরোপুরি বেরিয়ে যেতে দিন। এই ধাপে তাড়াহুড়ো করার কোনো কারণ নেই।
ড্রেন প্লাগ আবার লাগানোর আগে তার সিলিং ওয়াশার পরীক্ষা করুন। সেটি চেপে নষ্ট হয়ে গেলে, খুব বিকৃত হলে বা গভীর আঁচড় থাকলে পুনরায় ব্যবহার না করে বদলে দিন।
প্রথমে পুরোনো অয়েল ফিল্টার হাত দিয়ে আলগা করার চেষ্টা করুন। আটকে থাকলে ছোট একটি ইউনিভার্সাল অয়েল-ফিল্টার রেঞ্চ সেটি আলগা করার জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি গ্রিপ দিতে পারে।
ফিল্টার ঘুরতে শুরু করলে সরঞ্জাম সরিয়ে বাকি কাজ হাত দিয়ে করুন। কিছু ফিল্টারের প্যাঁচ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয়, তাই সময় নিয়ে কাজ করুন এবং নিচে অয়েল সংগ্রহের পাত্র রাখুন।
নতুন ফিল্টার লাগানোর আগে ইঞ্জিনের যে পৃষ্ঠে সেটি বসে, তা উপযুক্ত অটোমোটিভ ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন।
নতুন ফিল্টারের রাবার গ্যাসকেটে নতুন ইঞ্জিন অয়েলের পাতলা প্রলেপ লাগান। এতে গ্যাসকেট ঠিকভাবে বসে এবং লাগানোর সময় আটকে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।
গাড়ি বা ফিল্টার প্রস্তুতকারক অন্য নির্দেশ না দিলে নতুন অয়েল ফিল্টার সাধারণত হাত দিয়ে লাগানো উচিত। রেঞ্চ দিয়ে অতিরিক্ত আঁটলে পরবর্তী সার্ভিসের সময় ফিল্টার খোলা অত্যন্ত কঠিন হতে পারে এবং গ্যাসকেট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ড্রেন প্লাগের প্রথম কয়েকটি পাক হাত দিয়ে লাগান। এতে প্যাঁচ তির্যকভাবে বসে যাওয়া এড়ানো যায়, যা অ্যালুমিনিয়ামের অয়েল প্যানের প্যাঁচের ক্ষতি করতে পারে।
চূড়ান্তভাবে আঁটার জন্য টর্ক রেঞ্চ ব্যবহার করুন এবং গাড়ির সার্ভিসের তথ্যে দেওয়া নির্ধারিত টর্ক মেনে চলুন। উদাহরণ হিসেবে, ৩৫ N·m প্রায় ২৬ lb-ft-এর সমান, তবে সঠিক মান গাড়ি ও ইঞ্জিনভেদে আলাদা হয়।
ড্রেন প্লাগে কাজ করার সময় নির্ধারিত টর্ক কখনো আন্দাজ করবেন না। অতিরিক্ত আঁটলে প্যাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর যথেষ্ট না আঁটলে প্লাগ দিয়ে অয়েল চুইয়ে পড়তে পারে।
ড্রেন প্লাগ ও নতুন ফিল্টার লাগানো হয়ে গেলে, খুলে রাখা ইঞ্জিন কভারগুলি আবার লাগান এবং গাড়ি নিরাপদে নামিয়ে দিন।
এরপর প্রস্তুতকারকের সুপারিশ করা ইঞ্জিন অয়েল ঢালুন।
নতুন ফিল্টার লাগানোর মতোই অয়েলের মাত্রা সঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ডিপস্টিক পরীক্ষা না করে সুপারিশ করা পুরো পরিমাণ অয়েল একবারে ইঞ্জিনে ঢেলে দেবেন না। ইঞ্জিন, ফিল্টার ও গাড়ির ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় অয়েলের পরিমাণ বদলাতে পারে।
ইঞ্জিন এয়ার ফিল্টারের চেহারা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। পুরোনো ফিল্টার বাইরে থেকে খুব নোংরা না দেখালেও তার ফিল্টার উপাদান ইতিমধ্যেই সূক্ষ্ম ধুলো, ময়লা ও আবর্জনায় ভরে থাকতে পারে।
ফিল্টারে বাধা বাড়লে বাতাসের প্রবাহের প্রতিরোধও বাড়ে। ইঞ্জিনকে সেই বাধার বিরুদ্ধে কাজ করতে হয়, যা কর্মক্ষমতা কমা ও জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণ হতে পারে।
নতুন ফিল্টার লাগানোর আগে ফিল্টার হাউজিং পরীক্ষা করুন এবং জমে থাকা ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার করুন।
হাউজিং থেকে আলগা ধুলো ও আবর্জনা সরাতে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কাজে আসতে পারে। উপযুক্ত ক্ষেত্রে সামান্য ভেজা কাপড়ও ব্যবহার করা যায়, তবে নতুন ফিল্টার লাগানোর আগে হাউজিং পুরোপুরি শুকনো রয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
নতুন ফিল্টার তার খাঁজে ঠিকভাবে বসেছে এবং পুরো প্রান্ত বরাবর সম্পূর্ণ সিল হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। চোখে পড়ার মতো কোনো ফাঁক থাকা উচিত নয়।
ফিল্টার ঠিকভাবে না বসলে অপরিশোধিত বাতাস ফিল্টার পাশ কাটিয়ে ইঞ্জিনে ঢুকতে পারে।
হাউজিং বন্ধ করুন এবং সব ক্লিপ বা ফাস্টেনার ঠিকভাবে আটকানো রয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
গাড়ি প্রস্তুতকারকের সুপারিশ করা বদলানোর ব্যবধান মেনে চলুন। গাড়ি নিয়মিত কাঁচা রাস্তা, ধুলোভরা রাস্তা বা অস্বাভাবিক নোংরা পরিবেশে চললে ফিল্টার আরও ঘন ঘন বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কেবিন এয়ার ফিল্টারের কাজ আলাদা: এটি যাত্রীকক্ষে ঢোকা বাতাস পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
রক্ষণাবেক্ষণের একটি বাস্তবসম্মত নিয়ম হলো বছরে অন্তত এক বা দুইবার এটি পরীক্ষা করা, যদিও উপযুক্ত ব্যবধান গাড়ি, আবহাওয়া ও গাড়ি চালানোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।
কেবিন ফিল্টারে ধুলো, পরাগরেণু, পাতা ও আর্দ্রতা লাগে। সময়ের সঙ্গে জমা আবর্জনা বাতাসের প্রবাহে বাধা দিতে পারে এবং দুর্গন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভেন্ট থেকে বাতাসের প্রবাহ স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়ে গেলে বা ক্লাইমেট-কন্ট্রোল ব্যবস্থা চলার সময় জানালার কাচে আরও সহজে ধোঁয়াটে আবরণ জমলে কেবিন এয়ার ফিল্টার পরীক্ষা করুন।
অনেক গাড়িতে ফিল্টার গ্লাভ বক্সের পেছনে থাকে, যদিও সঠিক অবস্থান গাড়িভেদে বদলায়।
ফিল্টার খুলে নেওয়ার পর হাউজিং পরীক্ষা করুন। ভেতরে পাতা, ছোট আবর্জনার টুকরো ও অন্যান্য জিনিস জমতে পারে।
নতুন ফিল্টার লাগানোর আগে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে আবর্জনা সরান।
আবর্জনা HVAC ব্যবস্থার আরও ভেতরে পড়লে শেষ পর্যন্ত তা ব্লোয়ার ফ্যানে পৌঁছাতে পারে এবং ফ্যান চলার সময় খটখট বা খসখস শব্দ তৈরি করতে পারে।
নতুন কেবিন ফিল্টারের প্রান্তে সাধারণত বাতাসের প্রবাহের দিক নির্দেশকারী তিরচিহ্ন ছাপা থাকে।
পুরোনো ফিল্টার যেভাবে বসানো ছিল, শুধু তার ভিত্তিতে নতুন ফিল্টার লাগাবেন না। বাতাসের প্রবাহের চিহ্ন এবং গাড়ি প্রস্তুতকারকের নির্দেশ পরীক্ষা করুন।
নতুন ফিল্টার সঠিক দিকে ঢোকান, ঢাকনা আবার লাগান এবং সব ক্লিপ আটকে দিন। গ্লাভ বক্সের স্টপ বা ড্যাম্পার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিন।
কাজ শেষ।
প্রাথমিক রক্ষণাবেক্ষণ নিজে করা শুধু শ্রমের খরচ বাঁচানোর বিষয় নয়। কী লাগানো হচ্ছে এবং কাজ কীভাবে করা হচ্ছে, তার ওপরও এটি আপনাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ দেয়।
আপনি নিজে ফিল্টার হাউজিং পরিষ্কার করলে, ড্রেন প্লাগের প্যাঁচ পরীক্ষা করলে, নতুন ফিল্টার ঠিকভাবে লাগালে এবং নির্ধারিত টর্কে ড্রেন প্লাগ আঁটলে ঠিক কী কাজ হয়েছে তা আপনার জানা থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কাজে তাড়াহুড়ো না করা। সঠিক বদলি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করুন, প্রস্তুতকারকের সার্ভিসের তথ্য মেনে চলুন এবং ইঞ্জিন চালু করা বা গাড়ি নিয়ে বেরোনোর আগে নিজের কাজ আবার পরীক্ষা করুন।
ব্যবহারে ক্ষয় হওয়া যন্ত্রাংশ নিয়মিত বদলানো এবং রক্ষণাবেক্ষণের হিসাব রাখা ছোট সমস্যাকে ব্যয়বহুল মেরামতে পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে সাহায্য করতে পারে।