আপনার গাড়ির ডিকিতে রাখা জিনিসপত্র ভাবনার চেয়েও বেশি খরচ বাড়াচ্ছে—জেনে নিন কী সরিয়ে ফেলবেন
অপ্রয়োজনীয় মালপত্র বহন করলে অজান্তেই জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে, যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হতে পারে এবং চালক ও যাত্রীদের জন্য এড়ানো সম্ভব এমন নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিজ্ঞ চালকেরা অনেক দিন ধরেই একটি সহজ নিয়ম জানেন: গাড়ি যত কম ওজন বহন করে, সাধারণত তত কম জ্বালানি লাগে। অপ্রয়োজনীয় মালপত্রের মাত্র ২২০ পাউন্ড বাড়তি ওজনও জ্বালানি খরচ বাড়াতে পারে, আর শহরে বারবার থামা ও চলার সময় এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়।
একটি যাত্রায় পার্থক্যটি সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু হাজার হাজার মাইল চলার সঙ্গে বাড়তি ওজনের প্রভাব জমতে থাকে।

শহরে গাড়ি চালানোর সময় এই প্রভাব বিশেষভাবে বোঝা যায়। ভারী গাড়ি ট্র্যাফিক সিগন্যাল বা থামার নির্দেশক চিহ্নের সামনে থেকে ছেড়ে প্রতিবার গতি বাড়ানোর সময় বেশি শক্তি চায়। মহাসড়কের গতিতে প্রভাব সাধারণত কম হয়, তবে পুরোপুরি দূর হয় না। আর কোনো জিনিস ডিকি ঠিকভাবে বন্ধ হতে বাধা দিলে বা গাড়ির বডির বাইরে বেরিয়ে থাকলে, বায়ুগতীয় টান আরও একটি প্রতিরোধের উৎস হয়ে উঠতে পারে।
চালকেরা বিনা প্রয়োজনে কী কী সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন?
অনেক গাড়ির ডিকি এমন সব জিনিস রাখার জায়গা হয়ে ওঠে, যেগুলো খুব কমই ব্যবহার হয়। সাধারণ উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০ থেকে ৪৫ পাউন্ড ওজনের টুলবক্স
- পুরোনো টায়ার
- গ্রিল ও ক্যাম্পিংয়ের সরঞ্জাম
- বোতলজাত পানির বাক্স
- উইন্ডশিল্ড পরিষ্কারের তরলের বাড়তি পাত্র
- খেলাধুলার সরঞ্জাম
- মৌসুমভিত্তিক ব্যবহারের গাড়ির যন্ত্রাংশ
এসবের কিছু জিনিস মাসের পর মাস ব্যবহার না হয়েই গাড়িতে পড়ে থাকতে পারে। হঠাৎ থামা বা দুর্ঘটনার সময় এগুলো নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। ডিকিতে বাঁধা না থাকা কোনো বস্তু গাড়ির গতি বা দিক বদলালে প্রবলভাবে ছিটকে যেতে পারে।
বাড়তি ওজন শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয় নয়। নিয়মিত অতিরিক্ত বোঝা বহন করা গাড়ি স্প্রিং ও শক অ্যাবজর্বারসহ সাসপেনশনের যন্ত্রাংশে বাড়তি চাপ ফেলে। গাড়ির ওজন বাড়লে ব্রেকের কার্যক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে, ফলে থামতে বেশি দূরত্ব লাগতে পারে।
টায়ারের বাতাসের চাপও গুরুত্বপূর্ণ। কম বাতাস থাকা টায়ারে গাড়ি চালালে গড়ানোর প্রতিরোধ বাড়তে পারে এবং জ্বালানি সাশ্রয় কমতে পারে। গাড়ি, টায়ার ও চালানোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়ের সঙ্গে এই প্রভাব বোঝা যেতে পারে।

ডিকি থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরানোর সহজ নিয়ম
একটি বাস্তবসম্মত উপায় হলো নিজেকে একটি প্রশ্ন করা: গত এক মাসে কি আমি এই জিনিসটি ব্যবহার করেছি?
উত্তর না হলে, খুব সম্ভবত সেটি গাড়িতে রাখার প্রয়োজন নেই।
এর মানে এই নয় যে ডিকি পুরোপুরি খালি রাখতে হবে। চালকদের উচিত তাঁদের গাড়ি ও স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম রাখা, যেমন অতিরিক্ত টায়ার বা টায়ার মেরামতের কিট, মৌলিক জরুরি সরঞ্জামের কিট, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, টর্চ এবং পথে বিপদে পড়লে কাজে লাগতে পারে এমন অন্যান্য জরুরি সামগ্রী।
লক্ষ্য হলো অপ্রয়োজনীয় মালপত্র সরিয়ে ফেলা, কিন্তু জরুরি অবস্থায় সত্যিই কাজে লাগতে পারে এমন জিনিসগুলো রাখা।

কতটা জ্বালানি সাশ্রয় করতে পারেন?
জ্বালানি সাশ্রয়ে সামান্য উন্নতিও এক বছরে জমে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
যেমন, গড়ে প্রায় প্রতি গ্যালনে ২৯ মাইল চলে এবং বছরে প্রায় ৯,৩০০ মাইল পথ পাড়ি দেয় এমন একটি গাড়ি প্রায় ৩২০ গ্যালন জ্বালানি ব্যবহার করবে। জ্বালানি খরচ ২% কমলে ওই দূরত্বে আনুমানিক ৬ গ্যালন সাশ্রয় হবে।
গাড়ি, বহন করা ওজনের পরিমাণ, চালানোর পরিস্থিতি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের হারের ওপর নির্ভর করে প্রকৃত সাশ্রয়ে যথেষ্ট পার্থক্য হবে।
ডিকি থেকে জিনিস সরিয়ে ফেললে গাড়ির জ্বালানি সাশ্রয়ে আমূল পরিবর্তন আসবে না, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় মালপত্র সরানো একটি সহজ অভ্যাস, যার কোনো খরচ নেই। এতে গাড়ির ভেতরে বাঁধা না থাকা সরঞ্জামের পরিমাণও কমতে পারে এবং প্রতিদিন গাড়ির ওজন সামলানো যন্ত্রাংশ থেকে কিছু অপ্রয়োজনীয় চাপ কমতে পারে।
যেসব চালক দৈনন্দিন গাড়ি চালানোর খরচ কমাতে চান, তাঁদের জন্য ডিকি থেকেই সহজে শুরু করা যায়।
আপনিও খবরের প্রতি আগ্রহী হতে পারেন:
ঠান্ডা আবহাওয়ার জন্য গাড়ি কীভাবে প্রস্তুত করবেন: শরৎকালের পূর্ণাঙ্গ চেকলিস্ট
তাপমাত্রা কমে যাওয়া, ভারী বৃষ্টি এবং ছোট হয়ে আসা দিনের কারণে শীতে আরও নিরাপদে গাড়ি চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার আদর্শ সময় হলো শরৎকাল।
প্রথমবার বরফ জমার মতো ঠান্ডা পড়লেই গাড়ির ম্যাটের নিচে খবরের কাগজ রাখুন: শীতে গাড়ি চালানোর পুরোনো কৌশল
ফ্লোর ম্যাটের নিচে খবরের কাগজ রাখলে গাড়ির মেঝেকে শীতের আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে, তবে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
গাড়ি মেরামতের দোকান যেভাবে আপনার কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করতে পারে: প্রত্যেক চালকের যা জানা উচিত
একজন অভিজ্ঞ মেকানিক জানেন কীভাবে মেরামতের বিল বাড়ানো যায়, আর কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে চালকদের জানা উচিত কোন বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে।
১৫ মিনিটে গাড়ির ভেতরের খড়খড় শব্দের উৎস খুঁজবেন কীভাবে
একটি সহজ কৌশলে চালকেরা বিরক্তিকর খড়খড় শব্দের উৎস চিহ্নিত করতে পারেন, কেবিনের অর্ধেক খুলে না ফেলেই কিংবা মেরামতের দোকানে না গিয়েই।
কোনো চিহ্ন না রেখেই মিলিয়ে যেতে পারে ডেন্ট: রং না করে গাড়ির বডির ক্ষতি কীভাবে মেরামত করবেন
রং ছাড়া ডেন্ট মেরামতের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্যানেলকে তার মূল আকৃতিতে ফেরানো সম্ভব, তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলেই কেবল।